আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান পেলেন আইইডিসিআর’র গবেষকরা
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রকল্প ২০২৬ সালের ‘থাম্বেই ইন্টারন্যাশন্যাল রিসার্চ গ্র্যান্ট’ লাভ করেছে। এটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
‘বাংলাদেশের নারীদের প্যাপ স্মিয়ার নমুনায় হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (এইচপিভি) জাতীয় পর্যায়ের জিনোটাইপিক বণ্টন ও মলিকুলার এপিডেমিওলজি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তুলনামূলক গবেষণা: রিয়েল টাইম পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন ভিত্তিক একটি গবেষণা’ প্রকল্পের জন্য অনুদান পেয়েছেন বাংলাদেশী গবেষক দল।
গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইইডিসিআররের মেডিকেল অফিসার (এপিডেমিওলজি) ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম। গবেষণা দলের সহ-গবেষক হিসেবে রয়েছেন আইইডিসিআর’র পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) জাতীয় জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা। আন্তর্জাতিক সহযোগী হিসেবে গবেষণায় যুক্ত রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গালফ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষক দল।
জানা গেছে, একাধিক ধাপের প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যায় প্রকল্পটি। আগ্রহপত্র জমা দেওয়া এবং পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রস্তাব উপস্থাপনসহ সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর গবেষণাটি এই সম্মানজনক আন্তর্জাতিক অনুদানের জন্য নির্বাচিত হয়।
গবেষক দলের এই অর্জনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, ‘ এ অর্জন দেশের স্বাস্থ্য গবেষণার সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও আরও সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। এই অর্জন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
থাম্বেই ইন্টারন্যাশন্যাল রিসার্চ গ্র্যান্ট হলো—সংযুক্ত আরব আমিরাতের গালফ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (জিএমইউ) কর্তৃক প্রদত্ত একটি প্রধান গবেষণা তহবিল কর্মসূচি। এটি বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে উচ্চ-প্রভাবশালী চিকিৎসা ও ক্লিনিকাল গবেষণাকে সমর্থন করে এবং মোট তিন মিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম (প্রায় ৮,১৬,০০০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত অর্থায়ন করে।




