প্রতিবন্ধী শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী
শনিবার (২৭ জুন) গ্রাম ও শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশুকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, জন্মগতভাবে বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত শিশুরা যাতে অবহেলায় হারিয়ে না যায় এবং সমাজের মূলধারায় যুক্ত হয়ে লেখাপড়া, কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্র তার কাঠামোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনছে।
আজ সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের থেরাপি, শিক্ষা ও পুনর্বাসন সহায়তার জন্য তৈরি ‘সিএসএফ সেন্টার’র সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বড় প্রকল্প প্রস্তুত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী ৩০ জুন পাস হতে যাওয়া নতুন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ ও হ্রাসে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া মানুষের মানবিক উন্নয়ন ও সম-অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত অগ্রগতি। সরকার নীতি প্রণয়ন, বাজেট ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য অন্য নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক সময় উন্নয়ন বলতে অনেক টাকা হওয়া কিংবা বড় বড় ভবন নির্মাণকে বুঝি। কিন্তু শুধু ভবন দিয়ে সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, মানবিক উন্নয়নও হয় না। মানুষ হিসেবে যদি আমরা উন্নত হতে চাই, তবে সমাজে যার সামান্য অসুবিধা বা প্রতিবন্ধিতা আছে, তার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ থাকতে হবে। অন্যথায় কেবল ইটের দালানকোঠার উন্নয়ন হবে, সমাজের প্রকৃত রূপান্তর ঘটবে না।’
প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো শহর, নগর কিংবা দূরবর্তী গ্রামে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে সরাসরি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে সম-অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা যাতে অন্য শিশুদের মতো সমান মর্যাদায় পড়াশোনার সুযোগ পায়, সে জন্য শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও অবকাঠামো বিশেষ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কড়াইল বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান কড়াইলে এসে যে 'শিশু স্বর্গ' কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন, সেই মানবিক উদ্যোগ বছরব্যাপী চালু থাকবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত এই সিএসএফ সেন্টারে এসে প্রান্তিক শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং সিএসএফ সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি আবু ঈসা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন।




