সরকারি হাসপাতালে ব্যবসা ঢুকলে যা আছে, তাও শেষ হবে: বিরোধীদলীয় নেতা
সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে যৌথ মূলধনি কোম্পানির আদলে ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্যোগ যুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ কারণে তিনি প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। যদিও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্র এখনো সবার জন্য শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেনি, তবুও সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষকে সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র সরকারি উচ্চতর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, যেখানে মূলত সেইসব মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন, যাদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে যদি মুনাফাভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। তাই জনস্বার্থে প্রস্তাবিত বিলটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি
জয়েন্ট স্টক কোম্পানির মাধ্যমে এ উদ্যোগের নিবন্ধন নেওয়ার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, জয়েন্ট স্টকের অধীনে দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকে, একটি ব্যবসায়িক এবং অন্যটি দাতব্য। যদি সম্পূর্ণ অলাভজনক বা চ্যারিটি বেজড কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো ধরনের প্রফিট কনসার্ন এখানে যুক্ত হলেই বিদ্যমান চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। একই সঙ্গে এই অপারেট করার মেকানিজমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে বর্তমানের ন্যূনতম চিকিৎসাব্যবস্থাও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি না করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হোক। সেই কমিটি সার্বিক দিক গভীরভাবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে যদি কোনো প্রকৃত জনকল্যাণকর বিল আনতে পারে, তবেই তা পাস করা যুক্তিসংগত হবে।




