বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
সোমবার (১৩ জুলাই) সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বন্যা পরিস্থিতি, জরুরি চিকিৎসা প্রস্তুতি, সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি নিয়ে সমন্বিত প্রশ্নোত্তর ও তথ্যপত্র প্রকাশ করে অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ঝুঁকি এড়াতে এলাকাগুলোতেও আগাম স্বাস্থ্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১০ জুলাই মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত গুলো হলো—ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফোকাল পারসন নিয়োগ, মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুদ নিশ্চিতকরণ, গর্ভবতী মা ও শিশুদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
বন্যায় গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও সরবরাহ দপ্তরে (সিএমএসডি) ১ হাজার ভায়াল এবং মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার ভায়ালসহ মোট প্রায় ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রয়েছে। এছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল সরবরাহ করা হবে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন, প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ব্যাগ কলেরা স্যালাইন এবং প্রায় ৩৬ লাখ ১৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি সিএমএসডিতে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ নরমাল স্যালাইনও সংরক্ষিত রয়েছে।
বন্যাদুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিমগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা, ওষুধ ও ওরস্যালাইন বিতরণ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। পাশাপাশি সংক্রামক রোগের নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা গেছেন ২৫ জন। একই সময়ে গত বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪৬০ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৫ জনের। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭২৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৫৭০ জন।
ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিডিসি) ৭৫ হাজার ৭৪৫টি এনএস-১এজি কিট এবং ৪৪ হাজার ১৭৫টি কম্বো কিট মজুদ রয়েছে। আগামী মাসে আরও ৩ লাখ ২২ হাজার ৬০০টি এনএস-১এজি এবং ১ লাখ কম্বো কিট যুক্ত হবে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫০০। এ সময় ৯০ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১০৩ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। বন্যা পরিস্থিতিতে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনে জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ২৪ ঘণ্টার হটলাইন অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি কন্ট্রোল রুমের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।




