শিরোনাম

Space for ads

পরিত্যক্ত ভবন ও শৌচাগারে স্যালাইন-ওষুধ, ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

 প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন   |   স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়

পরিত্যক্ত ভবন ও শৌচাগারে স্যালাইন-ওষুধ, ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
Space for ads

বাগেরহাটের তিনটি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ, এমনকি শৌচাগারের ভেতরেও সরকারি চিকিৎসাসামগ্রী স্তূপ করা অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকায় ফিরে এসব অনিয়মের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শনিবার (২৬ জুলাই) বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার তিন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি।

সকাল ১১টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ শোনেন। পরে স্টক রেজিস্টার পর্যালোচনা ও বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই, সিরিঞ্জসহ নানা চিকিৎসাসামগ্রী স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এমনকি শৌচাগারের ভেতরেও স্যালাইন ও ওষুধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কামাল হোসেন মুফতি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বায়োমেট্রিক হাজিরা রেজিস্টারও পরীক্ষা করে কয়েকজন চিকিৎসকের আসা-যাওয়ার সময়ে অসঙ্গতি দেখতে পান মন্ত্রী।

অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল চত্বরে ইউএইচএফপিওর সরকারি বাসভবনও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেখতে পান, ডা. কামাল একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন। এ ঘটনায় তাকে তিরস্কার করেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

পরিদর্শনকালে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান মন্ত্রীকে। কে এই ছুটি অনুমোদন করেছেন জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, তিনি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছ থেকে মৌখিক ছুটি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনকে ফোন করলে তিনি সিভিল সার্জনের ছুটির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

পরে মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ ধরনের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এরপর শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় রোগীদের সঙ্গে নার্সদের খারাপ আচরণের অভিযোগ পান।

চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, নার্স তাদের সাথে খারাপ আচরন করে, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং বিছানার চাদর নোংরা হয়ে গেলেও পাল্টে দেন না। শুধুমাত্র আজকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসবেন জেনে হাসপাতালের বিছানার চাদর পরিবর্তন করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে তিরস্কার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

নাম জিজ্ঞেস করে নার্সের আইডি নম্বর জানতে চান মন্ত্রী। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান অভিযুক্ত নার্স। নার্সকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের টাকায় আপনারা বেতন পান, তাদেরকে আপনাকে গালাগালি করার অধিকার কে দিয়েছে?’

এ সময় ভুক্তভোগী রোগীকে মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে আবারও তার সঙ্গে এমন আচরণ হলে সরাসরি ফোন করার কথা বলেন।

সবশেষে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ওয়ার্ড, রান্নাঘর, শৌচাগার ও গুদামঘর পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসক সংকট দূর করতে দ্রুত পদায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক। এই সেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চার মাসে বাংলাদেশের মতো এত বড় দেশের সব হাসপাতাল পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। যেখানেই রিপোর্ট পাই, আমি ছুটে যাই। আজ এখানে এসে সবকিছু দেখেছি, নোট করেছি। বিভিন্ন অনিয়ম ও বিচ্যুতি রয়েছে। আমাকে ঢাকায় ফিরতে দিন। আমার ওপরও কর্তৃপক্ষ আছে। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করব এবং জনস্বার্থে যা যা দরকার, তা করব।’

উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ—দুই হাসপাতালে শিগগির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।





BBS cable ad

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এর আরও খবর: