শিরোনাম

Space for ads

রোগ নিরাময়ে শুধু ওষুধ নয়, প্রয়োজন সচেতনতা: ড. মজিবুল হক

 প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন   |   রোগ

রোগ নিরাময়ে শুধু ওষুধ নয়, প্রয়োজন সচেতনতা: ড. মজিবুল হক
Space for ads


অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মজিবুল হক।

তিনি বলেন, রোগের উপসর্গের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগের মূল কারণ চিহ্নিত করে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শনিবার (১৮ জুলাই) নগরীর ষোলশহরে অবস্থিত চট্টগ্রাম এলজিইডি ভবনে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের নতুন শাখা উদ্বোধন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সমন্বিত চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের অধ্যাপক, দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন, যুক্তরাষ্ট্রের কনসালট্যান্ট এবং আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মজিবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতিত্ব করেন আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান।
 
প্রফেসর ড.মজিবুল হক বলেন, বর্তমানে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ, স্থূলতা ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। এসব রোগের পেছনে বংশগত কারণের পাশাপাশি অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


তিনি আরও বলেন, রোগকে শুধু একটি উপসর্গ বা নির্দিষ্ট অঙ্গের সমস্যা হিসেবে দেখলে কার্যকর সমাধান পাওয়া কঠিন। রোগের পেছনে থাকা বিপাকীয় সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, অন্ত্রের ভারসাম্যহীনতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও জীবনযাপনের ভুল অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে এই ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলতে হবে। এর পরিবর্তে মৌসুমি ফল, শাকসবজি, মানসম্মত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ডায়াবেটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে শুধু রক্তে শর্করার সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থার জটিল পরিবর্তনের ফল। তাই ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা ও হজমের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক ঘুম ও মানসিক প্রশান্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ২ কোটি মানুষের বসবাস। সেই তুলনায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা সীমিত। তাই শুধু চিকিৎসাসেবা বাড়ালেই হবে না, রোগ প্রতিরোধের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সফল বাস্তবায়নের ফলে সংক্রামক রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে বর্তমানে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগের বড় অংশ সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক এ ধরনের সেমিনার মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষকে জানতে হবে কীভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়।

সেমিনারের উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, অটিজম, অন্ত্রের স্বাস্থ্য, দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ ও সমন্বিত চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রফেসর ড. মজিবুল হক বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণালব্ধ প্রমাণের আলোকে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
BBS cable ad