প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমাতে চায় সরকার: স্বাস্থ্য সচিব
রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের দাবি, কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের নিজস্ব পকেট থেকে চিকিৎসায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে কমে আসবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে রোগীর চাপও। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এক কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিক কেন্দ্র সংযুক্তকরণ (হাব অ্যান্ড স্পোক) মডেলে স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন। আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয়ের অঙ্গীকার করা হয়েছে। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির প্রায় ১.১ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। আমরা এমন একটি কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে প্রতিটি নাগরিক সহজে ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়। স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ, অর্থাৎ নিজস্ব অর্থে বহন করা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে বর্তমানে যেসব রোগী সরাসরি দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যান, তাদের একটি বড় অংশের চাপও কমে আসবে।
‘এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেলে স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই ব্যবস্থায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে’—বলেন তিনি।




