শিরোনাম

Space for ads

‘ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব’

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন   |   অন্যান্য

‘ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব’
Space for ads

 

ধূমপান ও বায়ুদূষণের মতো নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলো মোকাবেলা করার মাধ্যমে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব। বুধবার (১৮ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 
 

বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং প্রতিরোধযোগ্য বিষয়গুলোর ওপর জোর দিতে সংস্থাটি একটি নতুন নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ হলো ডিমেনশিয়া। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অক্ষমতা এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। 

এই রোগ মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন সাধারণ কাজকর্ম করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডিমেনশিয়ার প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো আলঝেইমার্স রোগ, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অসংক্রামক রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক দেবোরা কেস্টেল বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকেই নয়, বরং তার পরিবার ও সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এটি মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ডিমেনশিয়ার কোনো স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রতিরোধযোগ্য। এই প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাকের ব্যবহার, অ্যালকোহল সেবন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বায়ুদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অসংক্রামক ব্যাধি।

স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের সহায়তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের এই হালনাগাদ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, ২০১৯ সালে প্রকাশিত তাদের প্রথম নির্দেশিকার পর থেকে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের সপক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ আরও জোরালো হয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষের মানসিক ও জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে স্পষ্ট এবং তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সুপারিশ রয়েছে। ডিমেনশিয়া সাধারণত ৬৫ বছর বয়সের পর বেশি দেখা দিলেও, এটি বার্ধক্যের কোনো অনিবার্য অংশ নয়।

যেহেতু ডিমেনশিয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিরাময় বা চিকিৎসাপদ্ধতি নেই, তাই একে প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মৃদু মানসিক ও চিন্তাগত সমস্যায় ভুগছেন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কগনিটিভ স্টিমুলেশন বা মানসিক উদ্দীপনা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ডিমেনশিয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতি বছর আনুমানিক ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়, যার অর্ধেক অর্থই মূলত আক্রান্ত রোগীর পেছনে পরিবার ও বন্ধুদের অবৈতনিক সেবা বা পরিচর্যার কারণে ব্যয় হয়ে থাকে। তাই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: সামা টিভি।
BBS cable ad

অন্যান্য এর আরও খবর: