শিরোনাম

Space for ads

প্রচণ্ড গরমে ঘুমালে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

 প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন   |   রোগ

প্রচণ্ড গরমে ঘুমালে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি
Space for ads

প্রচণ্ড গরমে ঘুমানো শুধু অস্বস্তিকরই নয়, এটি হৃদ্‌যন্ত্রের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে গরমের কারণে সরাসরি হার্ট অ্যাটাক হয়, এমনটি বলা সঠিক নয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে রক্তনালি প্রসারিত হওয়ায় অনেকের রক্তচাপ কমে যায়। যাদের আগে থেকেই নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের এ সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যদিও এসব পরিবর্তনের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ নেই।

সম্প্রতি বিএমসি মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শোয়ার ঘরের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে পরিবর্তন শুরু হয়। এতে ঘুমের সময় হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. ফার্গুস ও’কনর এবং তাঁর সহকর্মীরা। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪৭ জনের ওপর রাতের ঘুমের সময় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে তারা দেখেছেন, ঘরের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদ্‌স্পন্দনের হারও বৃদ্ধি পায়। প্রতি এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গড়ে মিনিটে প্রায় ১০ বার বেশি হৃদ্‌স্পন্দন হতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ঘরের তাপমাত্রা ৭৫ থেকে ৭৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে ঝুঁকি প্রায় এক দশমিক চার গুণ, ৭৯ থেকে ৮২ ডিগ্রিতে দুই গুণ এবং ৮২ থেকে ৯০ ডিগ্রিতে প্রায় দুই দশমিক নয় গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে নির্দেশনা দিলেও রাতের তাপমাত্রা বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন দেয়নি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে গরম রাতের সংখ্যা বাড়বে এবং এর স্বাস্থ্যগত প্রভাবও আরও গুরুতর হতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গরমের সময় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সম্ভব হলে শোয়ার ঘরের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে বয়স্ক ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

BBS cable ad