ধানমন্ডিতে চলছে থাইরয়েড মেলা,বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে মিলবে চিকিৎসাসেবা
আগামী ২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস এবং মে মাসের শেষ সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘থাইরয়েড মেলা-২০২৬’। দি থাইরয়েড সেন্টার লিমিটেড ও বিটমির যৌথ আয়োজনে ধানমণ্ডির সুবাস্তু ইত্তেহাদ স্কয়ারে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ও রোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের উপাচার্য ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম ফজলুল বারী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম ফজলুল বারী, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির মহাসচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম, অধ্যাপক ডা. আবু বকর সিদ্দিক, ডা. সোনিয়া ফেরদৌস, ডা. রোমেলা ইয়াসমীন তৃণাসহ দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকরা।
আয়োজকরা জানান, তিনদিনব্যাপী এ মেলায় প্রায় তিন হাজার রোগীকে বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। থাইরয়েড রোগীদের কম খরচে চিকিৎসা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড়ে পরীক্ষা এবং এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা রাখা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম বলেন, দেশে থাইরয়েড রোগী ও থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও থাইরয়েড রোগীদের সেবায় দি থাইরয়েড সেন্টারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম ফজলুল বারী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েডজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে তিনজনই নারী। এছাড়া প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশই চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বংশগত কারণে থাইরয়েড রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে মা, নানী বা দাদীর থাইরয়েড সমস্যা থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তাই যেসব পরিবারে থাইরয়েড রোগী রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দেন তিনি।
অধ্যাপক বারী আরও জানান, জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা জরুরি—জন্মের পরপরই, বয়ঃসন্ধিকালে, নারীদের গর্ভধারণের আগে এবং ৪০ বছর বয়সের পর।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই থাইরয়েড টিউমার অপসারণ পদ্ধতি চালু করেছেন অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম ফজলুল বারী। এ পদ্ধতিতে রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকতেও হয় না।
মেলায় ৫০০ টাকায় থাইরয়েড কনসালটেন্ট ও অধ্যাপকের পরামর্শ, ৩৫০০ টাকায় থাইরয়েড চেকআপ প্যাকেজ, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে থাইরয়েড পরীক্ষা, কম মূল্যে থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং ২৫ শতাংশ ছাড়ে কালার ডপলার স্ক্যান, ইলাস্টোসক্যান ও থাইরয়েড টিউমারের রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও লেজার অ্যাবলেশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
মেলা চলবে ৮ ও ৯ মে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মেলার ভেন্যু: সুবাস্তু ইত্তেহাদ স্কয়ার, বাসা-১১ (৬ষ্ঠ তলা), রোড-৫, ধানমন্ডি, ঢাকা।




