জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার: হাইকোর্ট
জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকারই নির্ধারণ করবে। একইসঙ্গে ১৯৯৪ সালে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধের দাম নির্ধারণের আংশিক ক্ষমতা দিয়ে জারি করা সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৯৩ সালের সরকারি গেজেট পুনর্বহাল করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সার্কুলারটিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল। সে সময় ওষুধ মালিক সমিতির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এস. কে. মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সৈয়দ এজাজ করিব।
রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ১১ ধারায় সরকারকে ঔষধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। সে অনুসারে সরকার অধিকাংশ ঔষধের মূল্য নির্ধারণ করেন এবং ১৮.০৯.১৯৯৩ তারিখে ৭৩৯টি ঔষধের মূল্য নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। পরবর্তীতে উক্ত ক্ষমতাকে সীমিত করে ২৬.০২.১৯৯৪ তারিখে ১১৭টি ঔষধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা হাতে রেখে একটি সার্কুলার ইস্যু করা হয় এবং অন্যান্য সব ঔষধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্ত করা হয়। উক্ত সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করে জীবনরক্ষাকারী ঔষধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখার নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়।’
শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্দেশ দেন যে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ঔষধগুলোর মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।




