গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত চিকিৎসার ওপর জোর
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, অ্যাড্রিনালসহ বিভিন্ন এন্ডোক্রাইন রোগ মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব রোগের আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের উদ্যোগে ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড কমন এন্ডোক্রাইন ডিসওর্ডার’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত সেমিনারের বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান।
সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা। স্বাগত বক্তব্য দেন উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর ও গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিনসহ নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।
সেমিনারে গর্ভাবস্থায় অ্যাড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি, থাইরয়েড ম্যালিগন্যান্সির ইতিহাস থাকা নারীদের চিকিৎসা, প্রোল্যাকটিনোমা, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস) এবং গ্রেভস ডিজিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক চিকিৎসা নির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কেসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়।
বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. শাহিন ইবনে রহমান, ডা. আহমেদ ইফরাদ বিন রওনক, ডা. সানজিদা ইসলাম, ডা. রিফাত ফেরদৌস ও ডা. আফিয়া জয়নব তন্নি। আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ডা. নাজমা আক্তার, ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান, ডা. মারুফা মোস্তারী, ডা. ফৌজিয়া আনার এবং ডা. রেজওয়ানা সোবহান।
অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের প্রভাব শুধু মায়ের স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রসূতি ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো সময়ের দাবি।
অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা নির্দেশিকা যুক্ত হচ্ছে।
এসব অগ্রগতি চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় শেষ পর্যন্ত রোগীদের আরো নিরাপদ ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা বলেন, এন্ডোক্রাইন রোগের চিকিৎসায় এখন মাল্টিডিসিপ্লিনারি সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের বৈজ্ঞানিক আয়োজন চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করতে সহায়তা করছে।
উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের সময়োপযোগী ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মা ও নবজাতকের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক নির্দেশনা সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন বলেন, দেশে এন্ডোক্রাইন চিকিৎসার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও চিকিৎসকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার (পিএমডি) শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি তখনই রোগীর কাছে পৌঁছায়, যখন চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি গর্বিত।




