সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসক সুব্রত সাহার লাশ উদ্ধার
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চিকিৎসক সুব্রত সাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজের পরদিন শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ওই এলাকার পার্শ্ববর্তী নদী থেকে স্থানীয় জেলেরা তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি জানান, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
নিহত ডা. সুব্রত সাহা গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ২০১২-১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ঢাকার কমফোর্ট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আইসিউ) ছিলেন। তিনি লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে।সম্প্রতি তিনি মৌলভীবাজারের একটি হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে যান। তাঁর বাবা চাঁদপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন মৌলভীবাজারের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ডিউটি করতে যান সুব্রত। পরে গত ১ জুলাই পর্যন্ত সেখানে তাঁর ডিউটি ছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ জুলাই বন্ধুদের সাথে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে একটি ট্যুর এবং মাঝে ২ জুলাই সিলেটে অবস্থানের কথা ছিল তাঁর। সেই লক্ষ্যে ঢাকা থেকে আসা তাঁর ৩ বন্ধুর সাথে তিনি সিলেটে যোগ দেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তাঁরা চার বন্ধু মিলে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় বেড়াতে যান এবং নদীতে নামেন। চারজনের মধ্যে একজন তীরে বেড ভাড়া নিয়ে সবার ব্যাগ ও মোবাইলসহ মালামাল পাহারায় থাকেন এবং বাকি ৩ জন পর্যায়ক্রমে নদীতে নামেন।
সাথী অন্য দুই বন্ধু সাঁতার জানলেও ডা. সুব্রত সাঁতার জানতেন না। ফলে অন্য দুজন সাঁতার কেটে কিছুটা গভীরে চলে গেলেও সুব্রত তীরের কাছাকাছিই অবস্থান করছিলেন। কিছুক্ষণ পর বাকি দুজন ওপরে উঠে এসে সুব্রতকে দেখতে না পেয়ে ভাবেন তিনি হয়তো আগেই ওপরে উঠে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হয়।
এ সময় খবর পেয়ে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় রাতের মতো উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে সুব্রতের বন্ধুরা অফিশিয়াল অভিযানের বাইরেও রাতে নৌকা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখেন।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সাদাপাথর এলাকার পার্শ্ববর্তী একটি নদীতে স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে গেলে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে নিখোঁজ সুব্রতের বন্ধুরা গিয়ে নিশ্চিত করেন যে এটিই ডা. সুব্রত সাহার মরদেহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহ নিয়ে তাঁর সহকর্মী ও স্বজনেরা লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত তাঁর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আজ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সেখানে তাঁর দাফন কাফন সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।




