মাসুদ কামালের বক্তব্য দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর এক নজিরবিহীন আঘাত: এনএইচএ
একটি টেলিভিশন টকশোতে প্রবীণ সাংবাদিক মাসুদ কামাল কর্তৃক দেশের চিকিৎসক সমাজকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)। সংগঠনটি এই বক্তব্যকে সমগ্র দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর এক নজিরবিহীন আঘাত বলে উল্লেখ করেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) এনএইচএ’র দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. আব্দুস সালামের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি টকশোতে বক্তব্য প্রদানকালে সাংবাদিক মাসুদ কামাল চিকিৎসকদের সম্পর্কে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন— "চিকিৎসকদের মত চামার শ্রেণী দেশে দ্বিতীয়টা আর কি আছে?" এনএইচএ দৃঢ়ভাবে মনে করে, এখানে তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা শুধু চিকিৎসক সমাজকেই নয়, বরং দেশের সমগ্র চিকিৎসাব্যবস্থাকে এবং এর সাথে জড়িত লাখো কর্মীর আত্মত্যাগের গরিমাকে চরমভাবে অপমান করার শামিল। যে কোনো পেশার কার্যক্রম বা ত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু সেই সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, শালীন এবং দায়িত্বশীল। সমালোচনার নামে একটি গোটা পেশাজীবী সম্প্রদায়কে এমন নোংরা অভিধায় আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না, এটি সমাজজুড়ে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিভাজনকে উসকে দেওয়ার শামিল।
এনএইচএ নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও জরুরি অবস্থায় চিকিৎসকরা সর্বদা নিজেদের জীবনের মায়া ও পেশাগত ঝুঁকি তুচ্ছ করে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছেন। এমনকি দেশের প্রায় প্রতিটি হাসপাতালের প্রতিটি ইউনিটে চিকিৎসকদের নিজেদের পকেটের ও জমানো টাকা থেকে দরিদ্র অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য পুয়োর ফান্ড পরিচালনা করা হয়, যা প্রচারের আড়ালেই থেকে যায়।
সংগঠনটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, সাংবাদিক মাসুদ কামাল তাঁর ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ বা ক্ষোভ থেকে এমন অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন। এই ধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্যের কারণে একদিকে যেমন সাংবাদিকদের সাথে চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বিঘ্নিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ জনমনে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তীব্র বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে চিকিৎসা প্রদানের পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরবে। এনএইচএ আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, এদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি ঢালাওভাবে এমন চরম নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে প্রকারান্তরে তিনি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর 'হেলথ ট্যুরিজম' বা বিদেশে রোগী পাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের পক্ষেই কাজ করছেন।
এনএইচএ অবিলম্বে উক্ত আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার, চিকিৎসক সমাজের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায়, চিকিৎসক সমাজের সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষার্থে দেশের সকল চিকিৎসা পেশাজীবীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে জনিয়েছে সংগঠনটি।




