সুনামগঞ্জ মেডিকেলের হাসপাতাল অংশ ৬ সপ্তাহের মধ্যে চালুর সিদ্ধান্ত
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল অংশ আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ১ জুলাই দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়শই শিক্ষার্থীদের সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ এবং সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে। সভায় স্বল্প সময়ের মধ্যে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুকরণের বিষয়ে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা অতিব জরুরি মর্মে আলোচনা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের পরিসরে সীমিত বহির্বিভাগ আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে চালুকরণ, আগামী অক্টোবর থেকে মেডিসিন অন্তবিভাগ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ চালুকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ ছাড়াও হাসপাতাল চালুকরণের নিমিত্তে অনতিবিলম্বে একজন পরিচালক/উপপরিচালক এবং চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সভায়। এর আলোকে গত ৫ জুলাই সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের নতুন উপ-পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ডা. আহম্মদ হোসেনকে পদায়ন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সিলেট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) সংযুক্ত ছিলেন তিনি।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পদ সৃজন নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ সভাকে অবহিত করেন, হাসপাতালের পদ সৃজন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় লোকবল নিয়োগ করা সম্ভব নয়। পদ সৃজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ পর্যায়ে দ্রুত অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রদানের জন্য অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করা প্রয়োজন।
এর আলোকে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পদ সৃজনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নিমিত্তে দ্রুত অর্থবিভাগে যোগাযোগ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রসঙ্গত, হাসপাতাল চালুর দাবিতে ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল চালু না থাকায় তাঁদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয় জেলা সদর হাসপাতালে।
তবে কলেজ থেকে হাসপাতালটির দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এ ছাড়া যাতায়াতের জন্য কলেজের কোনো বাস না থাকায় নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ২০২৩ সালে কলেজের সঙ্গে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালুর কথা থাকলেও পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুলাই নির্ধারণ করা হয়।
তবে চলতি বছরেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় গত ২১ জুন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।




