হামে শিশুমৃত্যু ৪৫০ ছাড়াল এক দিনে ঝরল ১২ প্রাণ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরো ১২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল; বাকি আটজনের মধ্যে হামের উপসর্গ ছিল।
এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫১। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে; এই সময়ে এক হাজার ১৯২ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসেন; যাদের মধ্যে এক হাজার ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪২২ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে।
আর সবচেয়ে কম সাতজন ভর্তি হয়েছে রংপুরে।
আড়াই দশকে সর্বোচ্চ সংক্রমণ : ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১। এদের মধ্যে সাত হাজার ৪২১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হাম ও উপসর্গের সংক্রমণ এর অর্ধেকও হয়নি।
এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭।
বেশির ভাগই টিকা পাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে পাওয়া ৬০টি শিশুর মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অত্যন্ত কম বয়সী শিশু, এমনকি নবজাতকেরও মৃত্যু হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৪০ শতাংশ দুই দিনের মধ্যে মারা যাচ্ছে।
এমআইএসের তথ্যে দেখা গেছে, তিন থেকে আট মাস বয়সী ২৯টি শিশু মারা গেছে, যারা টিকা পাওয়ার বয়সেই পৌঁছায়নি। ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী ২১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৬ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ছেলে ৩১ জন এবং মেয়ে ২৯ জন। এ ছাড়া ৯ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাসপাতালে আসার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে সংকটময়। ভর্তির দিনই মারা গেছে পাঁচ শিশু, এক দিনের মধ্যে ৯ জন এবং দুই দিনের মধ্যে আরো ৯ জন। অর্থাৎ ভর্তির প্রথম দুই দিনেই মারা যাচ্ছে ৪০ শতাংশ শিশু। ১০ দিন বা তার বেশি সময় চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছে ১৭ শিশু। এমনকি ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে আসা। ৬০ শিশুর মধ্যে ৪৮ জনই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছে, যার মধ্যে ৩০ জন এসেছিল অন্য জেলা থেকে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার ১১ জনই ছিল ঢাকার বাইরের। মৃত শিশুদের মধ্যে অন্তত ৩১ জনের টিকা পাওয়ার বয়স হয়েছিল, কিন্তু তারা টিকা পেয়েছিল কি না সেই তথ্য এমআইএসের কাছে নেই।
শিশু মৃত্যুর তিন কারণ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, শিশুরা হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যে শিশুরা মৃত্যুবরণ করছে তাদের একটি বড় অংশ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অন্যটি হলো মায়েদের পুষ্টির অভাব।
তিনি বলেন, হামের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে হামের টিকার বয়স ৯ মাস থাকলেও বর্তমানে অনেক ছোট শিশু আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করায় বয়সসীমা কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছে।
এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫১। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে; এই সময়ে এক হাজার ১৯২ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসেন; যাদের মধ্যে এক হাজার ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪২২ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে।
আর সবচেয়ে কম সাতজন ভর্তি হয়েছে রংপুরে।
আড়াই দশকে সর্বোচ্চ সংক্রমণ : ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১। এদের মধ্যে সাত হাজার ৪২১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হাম ও উপসর্গের সংক্রমণ এর অর্ধেকও হয়নি।
এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭।
বেশির ভাগই টিকা পাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে পাওয়া ৬০টি শিশুর মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অত্যন্ত কম বয়সী শিশু, এমনকি নবজাতকেরও মৃত্যু হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৪০ শতাংশ দুই দিনের মধ্যে মারা যাচ্ছে।
এমআইএসের তথ্যে দেখা গেছে, তিন থেকে আট মাস বয়সী ২৯টি শিশু মারা গেছে, যারা টিকা পাওয়ার বয়সেই পৌঁছায়নি। ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী ২১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৬ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ছেলে ৩১ জন এবং মেয়ে ২৯ জন। এ ছাড়া ৯ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাসপাতালে আসার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে সংকটময়। ভর্তির দিনই মারা গেছে পাঁচ শিশু, এক দিনের মধ্যে ৯ জন এবং দুই দিনের মধ্যে আরো ৯ জন। অর্থাৎ ভর্তির প্রথম দুই দিনেই মারা যাচ্ছে ৪০ শতাংশ শিশু। ১০ দিন বা তার বেশি সময় চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছে ১৭ শিশু। এমনকি ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে আসা। ৬০ শিশুর মধ্যে ৪৮ জনই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছে, যার মধ্যে ৩০ জন এসেছিল অন্য জেলা থেকে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার ১১ জনই ছিল ঢাকার বাইরের। মৃত শিশুদের মধ্যে অন্তত ৩১ জনের টিকা পাওয়ার বয়স হয়েছিল, কিন্তু তারা টিকা পেয়েছিল কি না সেই তথ্য এমআইএসের কাছে নেই।
শিশু মৃত্যুর তিন কারণ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, শিশুরা হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যে শিশুরা মৃত্যুবরণ করছে তাদের একটি বড় অংশ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অন্যটি হলো মায়েদের পুষ্টির অভাব।
তিনি বলেন, হামের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে হামের টিকার বয়স ৯ মাস থাকলেও বর্তমানে অনেক ছোট শিশু আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করায় বয়সসীমা কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছে।




