শিরোনাম

Space for ads

স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ শিল্পের লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণের পরামর্শ

 প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন   |   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ শিল্পের লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণের পরামর্শ
Space for ads

দেশে স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল ইকুইপমেন্টস এবং ওষুধ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী নীতিমালা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল ইকুইপমেন্টস ও ওষুধ শিল্পের লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আহ্বান জানান তারা।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান।

মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল বা এপিআই (অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টস) উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি মেডিকেল ইকুইপমেন্টস ও ওষুধ শিল্পের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা শিল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যুগোপযোগী নীতিমালা বাস্তবায়ন না হলে দেশে মেডিকেল ইকুইপমেন্টস শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা এবং শিল্পের ইকো-সিস্টেম উন্নয়নে নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এপিআই শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য একজন উদ্যোক্তাকে ৪৭টি সংস্থা থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়, যা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। এ কারণে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণে একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস (OSS) চালুর আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক হেলথ প্রোগ্রামের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম বলেন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ না হলে বেসরকারি খাতকে এ শিল্পে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আসরাফ হোসেন বলেন, আবেদন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সময় লাগে; ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করার সুযোগ নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান জানান, ওষুধ শিল্পের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। লাইসেন্সের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ বছর করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবায় মান নিয়ন্ত্রণ এবং কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এলডিসি পরবর্তী সময়ে টিকে থাকতে এপিআই শিল্প গড়ে তোলা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের একার পক্ষে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

বিডা মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক জানান, মেডিকেল ইকুইপমেন্টস শিল্পের জন্য স্বতন্ত্র একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মূল্যায়ন ও পরামর্শের ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আয়ের সীমা নির্বিশেষে সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় যেন মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে নীতি নির্ধারকরা সচেষ্ট থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি হাসপাতালের সংখ্যা, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সেমিনারে এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক, ব্যবসায়ী নেতা ও সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

BBS cable ad

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর আরও খবর: