ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ শেষ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
একটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীর (ক্রুজ শিপ) যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অবশেষে শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে আক্রান্ত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সর্বশেষ ব্যক্তিটি তার কোয়ারেন্টাইন পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
পরীক্ষায় তার করোনা বা হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং তিনি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছেন। গত ২৫ মে-র পর থেকে আর কোনো নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।
ডব্লিউএইচও জানায়, এই প্রাদুর্ভাবে মোট ১৩ জন যাত্রী ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’, যা হান্টাভাইরাসের একটি অত্যন্ত বিরল স্ট্রেইন (ধরন)।
‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের প্রমোদতরীটি ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রথম যে দুইজন যাত্রী আক্রান্ত হয়েছিলেন, তারা আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ে ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সফরের কিছু এলাকায় হান্টাভাইরাস বহনকারী বিশেষ প্রজাতির ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। সেখান থেকেই মূলত ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ানোর পর জাহাজের ভেতর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে থাকতে পারে। এই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ৩৩টি দেশ ও অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ ৬৫০ জনেরও বেশি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে শনাক্ত করে কঠোর নজরদারির আওতায় এনেছিল। যেসব যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য আগে নামানো হয়নি, তারা মে মাসে স্পেনের টেনেরিফে জাহাজ থেকে নামেন এবং সেখান থেকে বিমানে করে নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।
ডব্লিউএইচও-এর চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ডায়ানা রোজাস আলভারেজ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, অ্যান্ডিস ভাইরাসসহ অন্যান্য হান্টাভাইরাসগুলো এখনও দক্ষিণ আমেরিকা এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকার জন্য জনস্বাস্থ্যের বড় ঝুঁকি। আমাদের কাজ হলো এই ভাইরাসের ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখা এবং এর যেকোনো ধরনের বিস্তার মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা।
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মূত্র, মল বা লালা থেকে ছড়ায়। বাতাসে মিশে থাকা এই ভাইরাস কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বর, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশি ও পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে (কখনো এক মাসেরও বেশি সময় পর) এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এই দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার কারণেই যাত্রীদের দীর্ঘদিন আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।




