হাসপাতালে পকেটমার অভিযোগে নারী চক্রের ছয় সদস্য আটক
বুধবার (২২ জুলাই) মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পকেটমার অভিযোগে ছয় নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চলতি মাসে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবন চালু হয়েছে। এরপর থেকেই রোগী ও স্বজনদের মুঠোফোন, টাকা চুরির ঘটনা ঘটছে। বেশির ভাগ ঘটনা হাসপাতালের লিফটে ঘটে।
আটক ছয় নারী সদস্য জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তাঁরা মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
হাসপাতাল সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, মেহেরপুর পৌরসভার বাসিন্দা হাসান আলীর স্ত্রী কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যান। লিফটের পঞ্চম তলায় নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ওঠার পর ছোট মেয়ের হাতে থাকা সোনার ব্রেসলেট গায়েব হয়ে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে থাকা আনসার সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এ সময় নিচতলায় ভিড়ের মধ্যে জাহিদুর রহমান নামের এক রোগীর পকেট থেকে টাকা নেওয়ার সময় তিনি এক নারীকে হাতেনাতে ধরেন। তিনি ‘পকেটমার ধর’ বলে চিৎকার করে উঠলে আনসার সদস্যরা ও রোগীর স্বজনেরা মিলে ওই নারীকে আটক করেন। এ সময় তাঁকে ছাড়াতে আসেন আরও পাঁচ নারী। তাঁদেরও আটক করা হয়। পরে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর মেডিভয়েসকে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, হাসান আলীর ছোট মেয়ের হাতে থাকা সোনার ব্রেসলেট চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগে তিনি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
বিস্তারিত জানতে চাইলে মেহেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল মেডিভয়েসকে বলেন, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা ছয় নারীর বিরুদ্ধে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৩১, যা ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পেনাল কোডের ৩০০/৭৯/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়। পরে ছয়জন আসামিকেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাজ্জাদ হাসান গণমাধ্যমকে জানায়, এ বিষয়ে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া ছিল। আজ ছয়জনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। আনসার সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।




