শিরোনাম

Space for ads

৩ পানীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে, কমাবে ক্যানসারের ঝুঁকি

 প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন   |   ভেষজ

৩ পানীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে, কমাবে ক্যানসারের ঝুঁকি
Space for ads

ক্যানসার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম উদ্বেগের স্বাস্থ্যঝুঁকি। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশগত বিভিন্ন কারণ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

চিকিৎসকেরা বলেন, রোজের জীবনযাপন, খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস সবকিছুই এর জন্য দায়ী। স্তন, কোলন, প্রস্টেট, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারও চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। ক্যানসার সাধারণ হোক বা বিরল, সব ক্ষেত্রেই এই ‘গ্রোথ অব সেল’ হবেই। খুব তাড়াতাড়ি এক কোষ থেকে অন্য কোষে তা ছড়াবে। বেশির ভাগ ক্যানসারই ধরা পড়ে তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে গিয়ে। কারণ রোগী তো বটেই, পরিবার-পরিজনেরাও রোগের লক্ষণ নিয়ে সচেতন নন। কিন্তু যদি রোজের যাপনে কিছু অভ্যাসে বদল আনা যায়, তা হলে হয়তো ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে পারে।
 
জীবনধারায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে জানিয়েছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। তাদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি স্বাস্থ্যকর পানীয় যুক্ত করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

গবেষকদের সুপারিশ করা তিনটি পানীয় হলো-
সবুজ স্মুদি

পালং শাক, শসা, কলা ও আদা দিয়ে তৈরি সবুজ স্মুদি ফাইবার, ভিটামিন এ, সি ও ই, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রনের ভালো উৎস। নিয়মিত এই ধরনের পুষ্টিকর পানীয় গ্রহণ শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।

যেভাবে বানাবেন

পালং শাক গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। কলার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। একই ভাবে শসা কেটে নিতে হবে। এর পর উপকরণগুলিকে এক সঙ্গে নিয়ে তাতে অল্প পরিমাণে আদা মিশিয়ে মিক্সিতে দিয়ে পেস্ট করে নিন। কাচের গ্লাসে সবুজ পানীয় ঢেলে দিন। অল্প গোল মরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন পানীয়ের উপরে।


হলুদ দুধ

হলুদের প্রধান উপাদান কারকিউমিন দীর্ঘদিন ধরেই এর প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধের সঙ্গে হলুদ, দারচিনি ও গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে এর উপকারিতা আরও বাড়তে পারে। গোলমরিচের পিপারিন উপাদান কারকিউমিন শোষণে সহায়তা করে।


যেভাবে বানাবেন

গরুর দুধ সহ্য না হলে আমন্ড বা ওট্সের দুধে এক চামচ হলুদ, গোটা গোলমরিচ, দারচিনি মিশিয়ে খেতে পারেন। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, গোলমরিচে আছে ভিটামিন, শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। আছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার, সামান্য প্রোটিন এবং শর্করাও। আর আছে পিপারিন নামের একটি উপাদান। হলুদের সঙ্গে খেলে উপকার বেশি হবে।

মাচা গ্রিন টি

মাচা গ্রিন টিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, পলিফেনল ও অ্যামাইনো অ্যাসিড। এসব উপাদান শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া প্রদাহ কমানো এবং কোষের ক্ষতি প্রতিরোধেও এর ভূমিকা থাকতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।


যেভাবে বানাবেন

এক কাপ ফুটন্ত পানির সঙ্গে ব্রাউন সুগার মিশিয়ে নিন। এ বার অন্য একটি কাপে মাচা চায়ের গুঁড়োর সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে থকথকে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এ বার সসপ্যানে চায়ের মিশ্রণের সঙ্গে ব্রাউন সুগার মেশানো পানি মিশিয়ে কম আঁচে নাড়তে হবে। অনেকে এর সঙ্গে দুধও মেশান। ক্রমাগত নেড়ে যেতে হবে। সবুজ রঙের থকথকে মিশ্রণ তৈরি হলে গ্যাস বন্ধ করে দিতে হবে।


তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো একক খাবার বা পানীয় ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যানসার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
BBS cable ad