দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, বাড়ছে উদ্বেগ
বংশগত রক্তের জটিল রোগ থ্যালাসেমিয়া দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, যা মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। সচেতনতার অভাব ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের ঘাটতির কারণে প্রতিবছর নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
রক্তরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থ্যালাসেমিয়া এমন একটি রোগ যেখানে শরীরে প্রয়োজনীয় হিমোগ্লোবিন পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না। ফলে রোগীরা দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, ফ্যাকাশে ত্বক, জন্ডিস, অরুচি ও সংক্রমণের মতো নানা সমস্যায় ভোগেন। অধিকাংশ রোগীকেই আজীবন নিয়মিত রক্ত নিতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি মাসে রক্ত ও ওষুধের পেছনে অন্তত ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। একই সঙ্গে রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত রক্তদাতার অভাবও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, দুইজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে সন্তানের ২৫ শতাংশ থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সচেতনতা বাড়ানো এবং আগেভাগে বাহক শনাক্ত করতে পারলে এই রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ সম্ভব।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে, যা ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে রাজশাহী ১১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম ১১ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বাহক রয়েছে সিলেটে, ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, বিয়ের আগে স্ক্রিনিং এবং নিয়মিত রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই।




