টিকার ঘাটতিতে বাড়ছে হাম, এএমআর রুখতেও জরুরি টিকাদান
বাংলাদেশে সংক্রমণ কমানো, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হ্রাস এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবেলায় টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।
ওয়ান হেলথ ট্রাস্ট ও আইসিডিডিআর,বির নেতৃত্বে পরিচালিত গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পার্টনারশিপের (গার্প) এক পলিসি ব্রিফে বলা হয়েছে, টিকাদান শুধু সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ নয়, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো এবং ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার ঠেকাতেও কার্যকর কৌশল।
প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন দেশে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার ৯১১ জনের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৯ জনের বেশি নিশ্চিত বা সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং কিছু জনগোষ্ঠীর টিকার প্রতি অনাস্থার কারণে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবে দেখা যাচ্ছে।
আইসিডিডিআর’বির ইনফেকশাস ডিজিজেস ডিভিশনের বৈজ্ঞানিক ও গার্প-বাংলাদেশের সভাপতি ডা. ওয়াসিফ আলী খান বলেন, টিকা সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার কমাতে সহায়তা করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে এএমআরের কারণে ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। শুধু বাংলাদেশেই ২০২১ সালে এএমআর-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার ৮৭৮, যার মধ্যে ২৩ হাজার ৪৫৪ জনের মৃত্যু সরাসরি এএমআরের কারণে হয়েছে।
পলিসি ব্রিফে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে বাংলাদেশ নবজাতকের ধনুষ্টংকার নির্মূল, পোলিও দূরীকরণ ও জন্মগত রুবেলা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এসব অর্জন ধরে রাখতে টিকাদান কভারেজ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এতে সার্বজনীন শিশু টিকাদান নিশ্চিত করা, এএমআর প্রতিরোধে কার্যকর টিকার প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং জাতীয় এএমআর কৌশলে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি নিউমোকক্কাল কনজুগেট টিকার কার্যকারিতা মূল্যায়ন, টাইফয়েড কনজুগেট টিকাকে নিয়মিত কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত রোটাভাইরাস টিকা চালুরও আহ্বান জানানো হয়েছে।




