শিরোনাম

Space for ads

সেভ দ্য চিলড্রেন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমওইউ সই

 প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন   |   চিকিৎসা

সেভ দ্য চিলড্রেন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমওইউ সই
Space for ads

বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কৈশোরবান্ধব সেবা জোরদার করতে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। সোমবার এ স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ ও সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ অংশীদারত্বকে দেশের কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও চাহিদাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, বাংলাদেশে প্রতি চারজন তরুণীর মধ্যে প্রায় একজন ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিশোরী মাতৃত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ায় নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সঠিক তথ্য, কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এ সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য তথ্য ও সেবার প্রাপ্যতা সম্প্রসারণ এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবে। এছাড়া নির্বাচিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কিশোর-কিশোরীবান্ধব সেবার প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা ও গুণগত মানোন্নয়নে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ বলেন, ‘এ সমঝোতা স্মারক কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা আরো শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। কৈশোরবান্ধব যেকোনো উদ্যোগে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা সমানভাবে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হতে পারে এবং সেবায় সমান প্রবেশাধিকার পায়। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি কাউন্সেলিং কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ সার্ভিসেস ইউনিটের পরিচালক নাসির আহমেদ বলেন, ‘লাইফ স্কিল ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে কিশোর-কিশোরীদের বিনিয়োগ শুধু তাদের ব্যক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ব্যবহারিক ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়, যা ভবিষ্যতে তাদের দক্ষ কর্মী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।’

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশই কিশোর-কিশোরী। তাই তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে বিনিয়োগ দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্বের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। পাশাপাশি তরুণদের প্রয়োজনীয় তথ্য, সহায়তা ও সক্ষমতা দিয়ে আরো ক্ষমতায়িত করা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ সমঝোতা স্মারক আমাদের চলমান অংশীদারত্বের একটি নতুন অধ্যায়, যা কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে।’

BBS cable ad

চিকিৎসা এর আরও খবর: