Space for ads

হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : পানি নেই, জেনারেটর নেই দুর্ভোগে রোগীরা

 প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন   |   কমিউনিটি হাসপাতাল

হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : পানি নেই, জেনারেটর নেই দুর্ভোগে রোগীরা
Space for ads

হাকিমপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশুদ্ধ পানির সংকট, জেনারেটর না থাকা এবং খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের পানির ফিলটার ও টিউবওয়েল বিকল থাকায় ভর্তি রোগীদের বিশুদ্ধ পানির জন্য বাইরে থেকে বোতলজাত পানি কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়।

হাসপাতাল ঘুরে এবং রোগী-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশুদ্ধ পানির সংকট সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে ভর্তি রোগীদের। বাড়তি খরচে পানি কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ফ্যান ও লাইট বন্ধ থাকায় গরমে ওয়ার্ডে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মহিলা ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ৬৫ বছর বয়সী রাহেলা খাতুনের স্বামী বছির উদ্দিন বলেন,  ‘একমাত্র টিউবওয়েল নষ্ট। বাইরে থেকে বোতলের পানি কিনে খেতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটি বাড়তি কষ্ট।’ একই ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী রোকেয়া বেগমের স্বামী আব্দুস সামাদ জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে টেকা যায় না। ‘ফ্যান-লাইট বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে বসে থাকতে হয়।’
পুরুষ ওয়ার্ডের রোগী আ. হামিদের অভিযোগ, শুধু খাবার পানিই নয়, অনেক সময় সাধারণ পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এতে রোগীদের গোসল, টয়লেট ব্যবহার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


হাসপাতালের খাবার নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে খাবার সরবরাহ করা হয় এবং খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। রোগীদের দাবি, সকালে নাশতা এবং দুপুর-রাতের খাবার সময়মতো না পাওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
২৩ নম্বর শয্যায় ভর্তি রোগীর স্বজন হালিমা বেগম বলেন, সকাল ১০টার পর নাশতা দেওয়া হয় এবং দুপুরের খাবার আসে অনেক দেরিতে। 
দেরিতে খাবার সরবরাহের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার অমিত কুমার ধলু বলেন, অনেকেই ফোনে অভিযোগ করেছেন। তবে আমরা মেনু অনুযায়ী খাবার হাসপাতালের কুককে দেই। সেখান থেকে সময়মতো না দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী। এ বিষয়ে কুক হাফিজার রহমানের ভাষ্য, বাজার সময়মতো না আসা এবং একজন কুক অবসরে যাওয়ায় তাঁকে একাই রান্না করতে হয়। সেজন্য অনেক সময় খাবার সরবরাহে দেরি হয়। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন সমস্যাগুলোর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি দেড় মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা দ্রুত সচল করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় কিছু রিচার্জেবল লাইট স্থাপন করা হয়েছে। খাবারের মান ও সময়সূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। দ্রুত টিউবওয়েল ও ফিল্টার মেরামত করা হবে। রোগীদের কষ্ট লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
BBS cable ad

কমিউনিটি হাসপাতাল এর আরও খবর: